সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর লেখা শুরু ও শেষ করার নিয়ম

অনেক সময় পরীক্ষার প্রশ্ন একটু কঠিন হলেই ছাত্র-ছাত্রীরা ঘাবড়ে যায় এবং প্রথম দিকে হাল ছেড়ে দিয়ে অনেকটুকু সময় নষ্ট করে ফেলে। এইক্ষেত্রে মনে রাখবে, তোমার যেরকম পরীক্ষা হবে তোমার অন্যান্য লাখো বন্ধুদেরও প্রায় তেমনটিই হবে। তাই পরীক্ষার প্রশ্ন দেখে কোনো কারণেই ভয় পাবে না। প্রথমে যে প্রশ্নটির উত্তর সবচেয়ে ভালো পারবে সেটি খুব তাড়াতাড়ি লিখে ফেলবে।
এরপর আস্তে আস্তে দেখবে তুমি সবগুলো প্রশ্নের উত্তরই কমবেশি পারছ।
সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর করার ক্ষেত্রে উত্তর হতে হবে প্রাসঙ্গিক। কোনো একটি প্রশ্নের উত্তরে অযথা বাড়তি কিছু লিখলে অতিরিক্ত কোনো নম্বর পাবে না। শুধু শুধু সময় নষ্ট হবে। তাই অপ্রাসঙ্গিক কোনো কিছুই লিখবে না।
সৃজনশীল প্রশ্নের ‘গ’ ও ‘ঘ’-এর উত্তর দেওয়ার সময় অনেক পরীক্ষার্থী উদ্দীপকের কথা উল্লেখই করে না। এটি একটি মস্ত বড় ভুল। তাই এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দেওয়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই উদ্দীপকের প্রেক্ষাপটে উত্তর দিবে। এই প্রশ্ন দুটির পাশাপাশি সৃজনশীল প্রশ্নের অন্য প্রশ্নগুলো কীভাবে উত্তর করবে তা নিচে আলোচনা করা হলো:
‘ক’ নম্বর প্রশ্নের উত্তর করার ক্ষেত্রে:
এই প্রশ্নটির নম্বর ১। এর উত্তরটি একটি শব্দে, একাধিক শব্দে বা সর্বোচ্চ একটি বাক্যে দেওয়া যেতে পারে। সব ক্ষেত্রেই তুমি ১ নম্বর পাবে। অযথা উত্তরের আকার বড় করলে তুমি এই ১ নম্বরের বেশি পাবে না। আবার এক শব্দে সঠিক উত্তর লিখলেও স্যার/ম্যাডাম তোমাকে ১ নম্বরের কম দিতে পারবেন না। তবে উত্তরটি একটি পূর্ণ বাক্যে হলেই ভালো হয়। এ ধরনের প্রশ্নের উত্তর তোমাকে স্মৃতি থেকে দিতে হবে। তাই কী, কে, কখন, কোথায়, কাকে বলে এই জাতীয় প্রশ্নের উত্তরগুলো ভালো করে মুখস্থ করে নাও।
‘খ’ নম্বর প্রশ্নের উত্তর করার ক্ষেত্রে:
‘খ’ নম্বর প্রশ্নের নম্বর ২। এই প্রশ্নে সাধারণত কী বোঝায়, ব্যাখ্যা কর, বর্ণনা কর, কেন এ ঘটনা ঘটেছে ইত্যাদি জানতে চাইবে। এই প্রশ্নটির উত্তর দেওয়ার ক্ষেত্রে একটু বুঝতে চেষ্টা করবে তুমি কোন প্রসঙ্গটি ব্যাখ্যা করতে যাচ্ছ।
প্রথমেই প্রসঙ্গটি একটু সংজ্ঞায়িত করে নেবে। উত্তরের এই অংশটি হলো জ্ঞান অংশ, যার জন্য তুমি পাবে ১ নম্বর। তারপর প্রসঙ্গটি কয়েকটি বাক্যে নিজের ভাষায় ব্যাখ্যা কর বা বুঝিয়ে লেখ। উত্তরের এই অংশটি হলো অনুধাবন অংশ, যার জন্য তুমি পাবে আরও ১ নম্বর। তুমি যদি শুধু জ্ঞান অংশটি লিখ তবে ১ নম্বর পাবে। আর অনুধাবন অংশসহ পুরো উত্তরটি লিখতে পারলে তুমি পেয়ে যাবে পুরো ২ নম্বর। এইক্ষেত্রে উত্তরটি দুই প্যারায় দিতে পারলে ভালো।
‘গ’ নম্বর প্রশ্নের উত্তর করার ক্ষেত্রে:
‘গ’ নম্বর প্রশ্নের মোট নম্বর ৩। এই প্রশ্নে উদ্দীপকের প্রদত্ত ক্ষেত্রে কোনো একটি প্রসঙ্গ ব্যাখ্যা করতে বলে বা বর্ণনা করতে বলে কিংবা কোনো সূত্র, নিয়ম, তত্ত্ব, নীতি, পদ্ধতি ইত্যাদি প্রয়োগ করে কিছু নির্ণয় করতে বলে। এই প্রশ্নটির উত্তর করার আগে ভালো করে উদ্দীপক ও প্রশ্নটি পড়ে কোন প্রসঙ্গটি নিয়ে তোমাকে উত্তর করতে হবে সেটি বুঝার চেষ্টা করতে হবে। এইক্ষেত্রে যে প্রসঙ্গটি ব্যাখ্যা করতে বলে বা যে প্রসঙ্গটি নিয়ে আলোচনা করতে বলে বা যেটি নির্ণয় করতে বলে, সেটি প্রথমে সংজ্ঞায়িত করে নিতে হবে বা আনুষঙ্গিক কোনো সূত্র বা তত্ত্ব থাকলে তা লিখতে হবে। উত্তরের এই অংশটি হলো জ্ঞান অংশ। এর জন্য তুমি পাবে ১ নম্বর। উক্ত প্রসঙ্গটি নিজের ভাষায় বুঝিয়ে লিখতে পারলে তুমি পেয়ে যাবে আরও ১ নম্বর। উত্তরের এই অংশটি হলো অনুধাবন অংশ। আর উদ্দীপকের প্রদত্ত ক্ষেত্রে উক্ত প্রসঙ্গটি বা সূত্রটি প্রয়োগ করতে পারলে অর্থাৎ, উদ্দীপকের প্রদত্ত ক্ষেত্রে উক্ত প্রসঙ্গটি কীরূপ হবে তা লিখতে পারলে বা সূত্র প্রয়োগ করে কিছু নির্ণয় করতে পারলে তুমি পেয়ে যাবে আরও ১ নম্বর। উত্তরের এই অংশটি হলো প্রয়োগ অংশ। তুমি যদি এক্ষেত্রে শুধু জ্ঞান অংশটি লিখতে পার, তবে পেয়ে যাবে ১ নম্বর। আবার তুমি যদি জ্ঞানের সঙ্গে অনুধাবন অংশটি লিখতে পার তবে পেয়ে যাবে আরও ১ নম্বর। আর যদি তুমি প্রয়োগ অংশসহ পুরো উত্তরটি সঠিকভাবে লিখতে পার তবে পেয়ে যাবে পুরো ৩ নম্বর। এইক্ষেত্রে উত্তরটি দুই থেকে তিন প্যারায় লিখতে পারলে ভালো। চলবে