সুযোগ ব্যয় কি। সুযোগ ব্যয়ের বৈশিষ্ট্য গুলো কি কি?

সুযোগ ব্যয়ঃ একটি সুযোগ গ্রহণ করতে গিয়ে অন্য আর একটি সুযোগ হারাতে হয়। হারানো সুযোগটি থেকে যে পরিমাণ সুবিধা পাওয়া যেত তাই গৃহীত সুযোগের সুযোগ ব্যয়। সুতরাং বলা যায় হারানো সুযোগের সুবিধাই হচ্ছে সুযোগ ব্যয়।


উদাহরণঃ মি. আফজাল একটি প্রতিষ্ঠানে বার্ষিক ২,৪০,০০০ টাকা বেতনে চাকুরী করেন। বর্তমানে তিনি নিজস্ব ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে অধিক সময় ব্যয় করার জন্য চাকুরীতে ইস্তফা দিতে চান। তার ব্যবসায়ে নিয়োজিত হওয়ার সুযোগ ব্যয় হবে বার্ষিক ২,৪০,০০০ টাকা(হারানো বেতন)।

সুযোগ ব্যয়ঃ
একটি কাজের জন্য যে সর্বোত্তম বিকল্পটি হারাতে হয়,সেই হারানোর পরিমাণই হলো নির্দিষ্ট কাজের সুযোগ ব্যয়।অর্থাৎ একাধিক সুযোগের বা চয়েসের মধ্যে যে কোন একটি গ্রহন করে অন্যটি ছেড়ে দেয়াকে বুঝায়।



উদাহরণ- মনে করি একই জমিতে গম ও আলু উৎপাদন করা যায়।কিন্তু গম ও আলু একসাথে উৎপাদন করা যায়না।গম উৎপাদন ছেড়ে দিলে যে পরিমাণ উপকরণ অব্যবহৃত থাকে তা আলু উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়।এখানে আলু উৎপাদনের সুযোগ ব্যয় হল ত্যাগকৃত গমের উৎপাদন।

 চাহিদার তুলনায় উৎপাদনের উপাদানের জোগান সীমাবদ্ধ বলে উৎপাদনের কোনো একটি ক্ষেত্রে কিছু উপাদান ব্যবহার করা হলে উৎপাদনের অন্যান্য ক্ষেত্রে ওই উপাদান ব্যবহার করার সুযোগ থাকে না। উপাদান বিকল্প কাজে ব্যবহারযোগ্য। একটি বিশেষ ক্ষেত্রে উৎপাদনের উপাদান ব্যবহারের অর্থই হলো অন্যান্য বিকল্প ক্ষেত্রকে উপাদানসমূহের ব্যবহার থেকে বিরত রাখা। এটাই সুযোগ ব্যয়। উৎপাদনের উপাদানসমূহ অন্যান্য বিকল্প ক্ষেত্রে নিয়োজিত হয়ে যে অর্থমূল্য লাভ করতে পারে, কোনো একটি বিশেষ ক্ষেত্রে নিয়োগ করেও উপাদানগুলোকে সেই পরিমাণ মূল্যই দিতে হয়। উপাদানসমূহের বিকল্প ব্যবহারের জন্য যে মূল্য দিতে হতে পারে, তাকেই সুযোগ ব্যয় বলা হয়। অর্থাৎ উপাদানগুলোকে কোনো বিশেষ ক্ষেত্রে নিয়োজিত রাখার দামই হচ্ছে সুযোগ ব্যয়। যেমন—ধরা যাক, একটি জমিতে ২০ কুইন্টাল আলু এবং ৫০ কুইন্টাল ধান উৎপাদন করা যায়। এখন এই জমিতে আলু উৎপাদন করা হলে ২০ কুইন্টাল আলুই পাওয়া যাবে কিন্তু ৫০ কুইন্টাল ধান পাওয়া যাবে না। অর্থাৎ ৫০ কুইন্টাল ধান উৎপাদন থেকে বঞ্চিত হবে। এ ক্ষেত্রে ২০ কুইন্টাল আলুর সুযোগ ব্যয় হলো ৫০ কুইন্টাল ধানে।