লালসালু উপন্যাসের মূল বিষয়বস্তু এইচএসসি পরীক্ষা

এইচএসসি পরীক্ষা 

লালসালু উপন্যাসের মূল বিষয়বস্তু -----
কেউনা পড়ে থাকলে পড়ে নিও... 
(১০০% পরীক্ষা দেওয়ার সময়
কাজেআসবে)।
লালসালু হচ্ছে লাল রঙের কাপড়।
এমনিতে লাল কাপড়ের তেমন কোনোমহিমা নেই।
তবে এটি খুব উজ্জ্বল রংহওয়ায় একে বিশেষ
উদ্দেশ্যে কাজেলাগানো যায়।
বাংলাদেশের
একশ্রেণির ধর্মব্যবসায়ী যুগ-যুগ ধরে লালরংটিকে
সফলভাবে কাজে লাগিয়েআসছে। কবরের উপর লাল
কাপড় বিছিয়েদিলে কবরের গুরুত্ব
অস্বাভাবিকভাবেবৃদ্ধি পায়।
তখন তা আর সাধারণ
কবরেসীমাবদ্ধ থাকে না_মাজারে পরিণত হয়।
কবরটি তখন মানুষের ভক্তিপ্রীতির আকর্ষণহয়ে
দাড়ায়। এ ধরনের কবরে মানুষপ্রতিনিয়ত ভিড় জমায়,
জেয়ারত করে,দোয়া দরুদ পড়ে এবং শিরনি দেয়।
টাকাপয়সা দেয়।
..
এভাবে মাজারটি হয়ে
দাড়ায়পরলোক চর্চার কেন্দ্রবিন্দু। এই
মাজারবাংলাদেশের লোকজীবনে অসামান্যপ্রভাব
ফেলে। এখানেই ‌লালসালুনামকরণের তৎপর্য
ইঙ্গিতময় হয়ে ওঠে। এরসাথে পীর-ফকিরদের সম্পর্ক
অত্যন্তনিবিড়।উপন্যাস যখন লেখা হয়- তখন
চলছেদেশভাগের প্রস্তুতি, সাম্প্রদায়িক
দাঙ্গা,দেশভাগোত্তর উদ্বাস্তু সমস্যা আর
সঙ্গেনতুন রাষ্ট্র গঠনের উদ্দীপনা।
এমনি একটাসময়ে ঔপন্যাসিক পটভূমি থেকে শুরু করেচরিত্র নির্বাচন;
সবই নিলেন গ্রামীণজীবন থেকে। কাহিনীর
বিষয়বস্তু সমাজ-চরিত্র : একদিকে কুসংস্কারগ্রস্ত
ধর্মভীরুশোষিত গ্রামবাসী, অন্যদিকে শঠ, ধর্ম-
ব্যবসায়ী ও শোষক ভূস্বামী। কিন্তুলালসালু
ঘটনাবহুল উপন্যাস নয়। ঘটনারচেয়ে ঘটনা
বিশ্লেষণের বিস্তারটাইচোখে পড়ে আগাগোড়া।
..
মূল চরিত্রমজিদ। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তাকেঘিরেই
উপন্যাসের কাহিনী আবর্তিত।তারপর মহব্বতনগর
গ্রামের অধিবাসীদেরমাজারকেন্দ্রিক ভয়-ভক্তি-
শ্রদ্ধা ওআকাঙ্ক্ষা_সব নিয়ন্ত্রণ করে মজিদ।
তারচক্রান্তেই নিরুদ্দেশ হয় তাহের ওকাদেরের
বাপ। আওয়ালপুরের পীরেরসঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতার
শেষে সেপীরকেও করে পরাভূত। খালেকব্যাপারীর
প্রথম স্ত্রীকে তালাকদেওয়ানো, যুবক আক্কাস স্কুল
প্রতিষ্ঠারআয়োজনকে বিদ্রূপ করা ও
তাকেঅধার্মিক হিসেবে চিহ্নিত করেগ্রামছাড়া
করা_এসবের মধ্য দিয়েইনিজের প্রভাব ও প্রতিষ্ঠা
নিরঙ্কুশবিস্তার করে, সে দ্বিতীয় বিয়েরপিড়িতে
বসে।
..
নতুন বউয়ের নাম জমিলা।চঞ্চল, সহজ-সরল
মেয়ে। কিন্তু প্রথমথেকেই মজিদকে স্বামী
হিসেবেমেনে নিতে পারে না সে।মজিদ
জমিলাকে শাসন করতে চায়; কিন্তুপারে না।
জমিলার থুথু নিক্ষেপের ঘটনায়ক্ষিপ্ত হয় সে।
জমিলাকে মাজার ঘরেরঅন্ধকারে খুঁটিতে বেঁধে
রাখে। শুরু হয়প্রবল ঝড়-বৃষ্টি, কিন্তু 'রহীমার হৃদয়
ব্যাকুলহয়। মজিদের প্রতি যে রহীমার বিশ্বাসছিল
পর্বতের মতো অটল এবং ধ্রুবতারারমতো অনড়' সে
রহীমাই করে বিদ্রোহ।বোঝা যায়, মজিদের
প্রতিষ্ঠার ভিতেফাটল ধরেছে। প্রতীকের
মাধ্যমেজমিলা পা মাজারকে যে
আঘাতকরে তা সমাজের কপালে কলঙ্কলেপনেরই
শামিল।
শিলাবৃষ্টিতে ফসলেরব্যাপক ক্ষতি হলে
গ্রামবাসী মজিদেরকাছে প্রতিকার চায়। কিন্তু
মজিদের কাছথেকে ধমক ছাড়া তখন আসে না কিছুই
:'নাফরমানি করিও না, খোদার ওপরতোয়াক্কেল
রাখো।' এভাবেই বিপর্যস্তপারিবারিক জীবন,
বিধ্বস্ত ফসলের ক্ষেতএবং দরিদ্র গ্রামবাসীর
হাহাকারের মধ্যদিয়ে লালসালু উপন্যাসের
কাহিনী শেষহয়।মজিদ কুসংস্কার, প্রতারণা
এবংঅন্ধবিশ্বাসের প্রতীক।
প্রথাকে সেটিকিয়ে রাখতে চায়, প্রভু হতে চায়, চায়অপ্রতিহত ক্ষমতার
অধিকারী হতে।প্রতারণা করে সজ্ঞানে।
সে ঈশ্বর-বিশ্বাসীও। কিন্তু মাজারটিকে সেটিকিয়ে রাখতে
চায় যেকোনো মূল্যে।নিজের অস্তিত্বকে টিকিয়ে
রাখার জন্যধর্মকে পুঁজি করে সে নামে এক ব্যবসায়।
তাই সেই কবরের পাশে দাঁড়িয়ে বুকেঝোলানো
তামার খিলাল দিয়ে দাঁতখোঁচাতে খোঁচাতে সে
স্পষ্ট বোঝে,দুনিয়ায় সচ্ছলভাবে দুবেলা খেয়ে
বাঁচারজন্য যে খেলা খেলতে যাচ্ছে
সেসাংঘাতিক।
বাংলা কথাসাহিত্যে লালসালুএকটিপ্রথাবিরোধী উপন্যাস। ধর্মকে যারাস্বার্থের
হাতিয়ার হিসেবে বাশোষণের হাতিয়ার হিসেবে
ব্যবহারকরে, লালসালু উপন্যাসে সেই
ধর্মব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে একটি জোরালোপ্রতিবাদ
উচ্চারিত হয়েছে। কিন্তু একইসঙ্গে মজিদ নামক
চরিত্রের মধ্য দিয়েব্যক্তি মানুষের যে ব্যক্তিগত
লড়াই এবংতার অস্তিত্বের জন্য বা টিকে
থাকারজন্য তার যে নিরন্তর সংগ্রাম;
সেটিকেওসৈয়দ ওয়ালিউল্লাহ তার উপন্যাসে
অত্যন্তজোরালোভাবে নিয়ে এসেছেন।
পীরেরবাড়িতে একটা মেয়েরস্বাভাবিকভাবে পর্দানশিন
থাকার কথা।যেমনটা দেখা গেছে, প্রথম বউ
রহিমারক্ষেত্রে। স্বামী মজিদের প্রতিটি কথাতার
কাছে অবশ্য পালনীয়। কোথাওকোনো নড়চড় নেই।
মজিদের কোনোধূর্ততা, শঠতা, ভণ্ডামি কোনোটাই
তারচোখে পড়ে না। অন্যদিকে জমিলাএকেবারেই
উল্টো পথে চলে।
উপন্যাসটিতে প্রধান নারী চরিত্র জমিলা, সূক্ষ্ম প্রতিবাদ ও কোনো কিছু মেনে না নেওয়া তার সহজাত বৈশিষ্ট্য। তার স্বামী, অর্থাৎ মজিদের প্রথম স্ত্র্রী রহিমা। জমিলার বয়স মজিদের অর্ধেকেরও কম। ১৮-১৯ বছরের যুবতী। মজিদ যখন বলে, রূপ দিয়া কি হইবো? মাইনষের রূপ ক-দিনের? ক-দিনেরই বা জীবন তার? এই কথাটি জমিলাকে বিদ্রোহী করে তোলে।
.

লালসালু সৈয়দ ওয়ালিউল্লাহ রচিত একটি উপন্যাস । উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৪৮ সালে, দ্বিতীয় প্রকাশকাল ১৯৬০।এর পটভূমি ১৯৪০ কিংবা ১৯৫০ দশকের বাংলাদেশের গ্রামসমাজ ।মূলত গ্রামীণ সমাজের সাধারণ সরলতাকে কেন্দ্র করে ধর্মকে ব্যবসার উপাদানরূপে ব্যবহারের একটি নগ্ন চিত্র উপন্যাসটির মূল বিষয়। উপন্যাসটির রচনাকাল ১৯৪৮ সাল। এটি সৈয়দ ওয়ালিউল্লাহর প্রথম উপন্যাস। এটি পরে ইংরেজি ও ফরাসি ভাষায় অনুবাদ করা হয়।২০০১ সালে তানভীর মোকাম্মেল-এর পরিচালনায় উপন্যাসটি চলচ্চিত্ররূপ লাভ করে। প্রধান চরিত্র: মজিদ, খালেক ব্যাপারী, জমিলা, রহিমা, হাসুনীর মা, আক্কাস। ছবিটি একাধিক জাতীয় পুরস্কার লাভ করে। এতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন রাইসুল ইসলাম আসাদ। উপন্যাসের মতো চলচ্চিত্রেও মাজার চিত্রিত হয়ে প্রচন্ড শক্তিশালী রূপে- যা একই সাথে মজিদের ক্ষমতার উৎস এবং ধর্মভীরু গ্রামবাসীর সকল মুসকিল আসানের প্রতীক।
.

লালসালূ হচ্ছে লাল রঙের কাপড়। এমনিতে লাল কাপড়ের তেমন কোনো মহিমা নেই। তবে এটি খুব উজ্জ্বল রং হওয়ায় একে বিশেষ উদ্দেশ্যে কা